728x90 AdSpace

  • Latest News

    Powered by Blogger.

    Latest News

    Thursday, November 6, 2014

    দেশজুড়ে বিদ্যুৎ​ বিপর্যয় দেখা দেওয়ায় শনিবার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় উৎ​পাদন ব্যাহত হয়েছিল। ​তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় হরতালের মধ্যেও গতকাল পুরোদমে কাজ করেছেন শ্রমিকেরা। ছবিটি নারায়ণগঞ্জের একটি নিট পোশাক কারখানা থেকে তোলা l পাপ্পু ভট্টাচার্য্যবিদ্যুৎ বিপর্যয়ে গত পরশু সারা দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। এতে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পোশাকশিল্পের মালিকদের অনেকেই সময়মতো পণ্য জাহাজীকরণ নিয়ে শঙ্কায় আছেন। একই সঙ্গে চলতি সপ্তাহে হরতাল থাকায় পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়েছে।
    তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর একাধিক নেতা জানান, বর্তমানে অধিকাংশ কারখানাতেই কাজ আছে। তাছাড়া নতুন করে অনেক কার্যাদেশও আসছে। শনিবারের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর জেনারেটর দিয়ে উৎপাদন চালিয়ে গেলেও অনেকেই সেদিন দুপুরের পর কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। পোশাক তৈরির জন্য মালিকেরা ক্রেতাদের কাছ থেকে খুবই অল্প সময় পান। সে ক্ষেত্রে প্রতিটি কর্মদিবসই গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে কোনো কারণে যদি একটি দিন বা আধা বেলা নষ্ট হয় তবে পুরো প্রক্রিয়ায়ই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য বন্দরে পৌঁছানো সম্ভব হয় না।
    এক সপ্তাহের ব্যবধানে যাঁদের শিপমেন্ট আছে, তাঁরাই বেশি সমস্যায় পড়বেন বলে মন্তব্য বিজিএমইএর নেতাদের। কারণ, আধা বেলার এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা কঠিন। শ্রমিকদের দিয়ে অতিরিক্ত সময় কাজ করিয়ে নিতে হবে। শেষ পর্যন্ত না পারলে পণ্য পাঠাতে উড়োজাহাজ একমাত্র ভরসা। তাতে খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।
    এদিকে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে পোশাকশিল্পে কত ক্ষতি হয়েছে, তার কোনো হিসাব বিজিএমইএ কিংবা বিকেএমইএ কারও কাছেই নেই। জানতে চাইলে এই দুই সংগঠনের দুজন নেতা ক্ষতির হিসাব নিয়ে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁরা দুজনই প্রাথমিকভাবে এই বিদ্যুৎ বিপর্যয়কে একটি ‘দুর্ঘটনা’ বলেই ধরে নিচ্ছেন বলে জানান। তবে উভয়েরই দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে তদন্ত করে বের করা দরকার, কেন এমনটা হলো। একই সঙ্গে বিকল্প ব্যবস্থার উন্নতি করাও প্রয়োজন।
    বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম প্রথম আলোকে বলেন, সাধারণত কারখানায় সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত উৎপাদন চলে। তারপর হয় ওভারটাইম। সারা দেশে সাড়ে তিন হাজার পোশাক কারখানা আছে। বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটর চালাতে প্রতি ঘণ্টায় কারখানাপ্রতি গড়ে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকার জ্বালানি তেল লাগে। বেলা ১১টা ২৭ মিনিটে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ ঘণ্টায় জেনারেটর চালাতে হয়েছে। তবে অনেক কারখানাই বিপর্যয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ করে দেন মালিকপক্ষ।
    বিজিএমইএর এই নেতা আরও বলেন, অনেক সময় দু-তিন ঘণ্টা বিলম্বের জন্যও জাহাজ মিস হয়। তখন উড়োজাহাজে পণ্য পাঠাতে হয়। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিটি ঘণ্টাই পোশাক কারখানার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া হরতালের কারণে পুরো সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। বর্তমানে হরতালে সহিংসতা কিছুটা কম হলেও কমবেশি আতঙ্কে থাকতে হয়।
    অন্যদিকে ক্ষতির পরিমাণ জানতে চাইলে বিকেএমইএর সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ৩৬৫ দিনের মধ্যে সাপ্তাহিক, উৎসব ও ঐচ্ছিক ছুটি বাবদ ৭৭ দিন বন্ধ থাকে। বাকি থাকে ২৮৮ দিন। গত অর্থবছর দুই হাজার কোটি ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে। তার মানে প্রতি কর্মদিবসে আয় প্রায় আট কোটি ডলার। আর যেহেতু কারখানার উৎপাদনের অর্ধেক বেলাই বিদ্যুৎ ছিল না, ফলে চার কোটি ডলার রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলা যায়। দেশীয় মুদ্রায় যা ৩০০ কোটি টাকার বেশি।
    বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর গতকাল এই প্রতিবেদকের সঙ্গে একাধিক মালিকের কথা হয়। তাঁরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটর দিয়ে সেলাই মেশিন চালানো গেলেও ডায়িং কারখানা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হয়। কারণ, বিদ্যুৎ ছাড়া কাপেড় রং নিখুঁত হয় না।
    নাম প্রকাশ না করার শর্তে টঙ্গী এলাকার এক কারখানা মালিক জানান, তাঁদের গ্রুপের ছয়টি কারখানাই জেনারেটর দিয়ে পাঁচটা পর্যন্ত কোনো রকমে চালানো হয়। তবে ফিনিশিং, আয়রন ও অটোমেটিক নিটিং বিভাগ বিদ্যুৎ না থাকায় বন্ধ করে শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।
    পোশাক কারখানার এই মালিক আরও বলেন, জেনারেটর দিয়ে দিনের বেলায় উৎপাদন হলেও ওভারটাইম করানো যায়নি। এই ক্ষতি পোষাতে ছুটির দিনে কাজ করাতে হবে বলে জানান তিনি। অন্যথায় সময়মতো পণ্য জাহাজীকরণ সম্ভব হবে না।
    সময়মতো পণ্য পৌঁছাতে না পারলে ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া কি হয় সে বিষয়ে শহিদউল্লাহ আজিম বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনায় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো খারাপভাবে নেয়। সরবরাহ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তাদের আস্থা কমে যায়।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শনিবারের ঘটনায় হয়তো বিরাট কিছু হয়নি। তবে আমাদের সর্তক থাকতে হবে।
    • Blogger Comments
    • Facebook Comments

    1 comments:

    Item Reviewed: Rating: 5 Reviewed By: Sakir
    Scroll to Top