দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার চায় জনগণ জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠানগুলোতে যোগ না দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নিক। এর মাধ্যমে আসন্ন বিশাল অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া আয়োজনে সরকারের ওপর চাপ কিছুটা লাঘব হবে। পরিস্থিতি এখনই এমন দিকে মোড় নিতে শুরু করেছে যা কর্তৃপক্ষকে ভাবিয়ে তুলেছে। ঐতিহাসিক এ আয়োজনটির সাক্ষী হতে ইচ্ছুক বিপুলসংখ্যক বিদেশী সাংবাদিক, পর্যটক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ইতোমধ্যে এসে পৌঁছেছেন দক্ষিণ আফ্রিকায়। রবিবার জোহানেসবার্গের নাসরেক এক্সপো সেন্টারে দেখা গেল এক হ-য-ব-র-ল অবস্থা।
সদ্য প্রয়াত দেশটির প্রথম সাবেক কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট স্মরণে প্রার্থনা সভায় যোগ দেন দেশ বিদেশের হাজার হাজার লোক। দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাইরের বিভিন্ন দেশের আড়াই থেকে তিন হাজার সাংবাদিক অনুষ্ঠানটি কভার করেন। এতলোকের ভিড়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হিমশিম অবস্থায় পড়ে কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠান কভার করতে আসা সাংবাদিকদেরও ভোগান্তি কম হয়নি। একসঙ্গে বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষজনকে সামাল দেয়া তদুপরি প্রিন্টার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সাংবাদিকদের পাস সংগ্রহ করতে অতিরিক্ত দুই থেকে চারঘন্টা সময় অপেক্ষা করতে হয়। বিশাল গাড়ি পার্কিং এরিয়াটি বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের কথাবার্তায় মুখরিত ছিল। ফলে তাদের পারষ্পরিক যোগাযোগ করতে সমস্যা হয়। এদের মধ্যে দুজন স্থানীয় সাংবাদিক আঞ্চলিক হোসা ও আফ্রিকান ভাষা তাদের রপ্ত থাকায় কর্মকর্তাদের বলে খুব সহজেই কিউ পেয়ে যান। ‘এখন সময় আফ্রিকানদের, এতে অন্যরা ক্ষুব্ধ হতেই পারে’ এই বলে জাকারান্ডা এফএফ রেডিওতে কর্মরত জোহানেসবার্গের এক সাংবাদিক ম্যান্ডেলার অনুষ্ঠান কভার করতে আসা জাপানের এক টিভি প্রযোজকের দিকে তীর্যক বাক্য ছুড়ে দেন। সব মিলিয়ে হাপিয়ে উঠেছিলেন সাংবাদিকরা। জার্মান একটি টিভি চ্যানেলের স্টাফ জ্যান মুলার বলেছেন, ‘আমরা ১০ জন লোক সেখানে এক ভয়াবহ অবস্থায় আটকা পড়েছিলাম। ওই মুহূূর্তে আমাদের একটাই চিন্তা ছিল তা হলো কিভাবে আমরা এই অসহ্য পরিস্থিতি থেকে রেহাই পেতে পারি।’ টিভি ক্যামেরা নিয়ে চার্চের ভেতরকার অনুষ্ঠান কভার করতে গিয়েও ভোগান্তির শিকার হন সাংবাদিকরা।
জোহানেসবার্গের ১৯৫টি হোটেলের অধিকাংশই ছিল বিদেশী সাংবাদিক ও দর্শণার্থীদের দিয়ে ঠাসা। নাসরেক এক্সপো সেন্টারে কর্মরত এক ব্যস্ত কর্মকর্তা অনেকটা কৈফিয়তের সুরে বলছিলেন, (২০১০ সালে অনুষ্ঠিত) ওয়ার্ল্ডকাপ ফুটবল আয়োজনের জন্য প্রস্তুত হতে তাঁরা চার বছর সময় পেয়েছিলেন। কিন্তু মাদিবার (এই নামে ম্যান্ডেলা দেশবাসীর কাছে বেশি পরিচিত) স্মরণ অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি হতে তাঁরা সময় পেয়েছেন মাত্র কয়েক মাস।
১৪ ঘণ্টা সফর করে ম্যান্ডেলার জন্য জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠানগুলোতে যোগ দিতে আসা মেরি মার্গারেট নামে মার্কিন মহিলা বলেছেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমরা আমাদের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সবাইকে এ কথাই জানাতে চাই যে, মাদিবাকে আমরা ভালবাসি। ১৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় ম্যান্ডেলার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে এ সপ্তাহের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দক্ষিণ আফ্রিকা যাবেন।
0 comments:
Post a Comment